অবৈধ প্রেমে গর্ভবতী স্ত্রী! প্রতিশোধ নিতে অবিশ্বাস্য শাস্তি।

সহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের জেরে সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েছিল স্ত্রী। জানতে পেরে আর ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেনি স্বামী। বদলা নিতে নিজের স্ত্রী, শ্যালককে সঙ্গে নিয়ে সহকর্মীকে খুন করে দেহ টুকরো টুকরো করে ষোলোটি ব্যাগে ভরে লুকিয়ে রেখেছিল ওই সেনা অফিসার। তার বাড়ির ভিতরের আলমারি, ফ্রিজের ভিতরে রাখা ষোলোটি প্লাস্টিকের ব্যাগে উদ্ধার হল প্রেমিকের দেহ। ২৭ বছরের ওই নিহত প্রেমিক বায়ুসেনার কর্পোরাল পদে কর্মরত ছিল। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্জাবের ভাটিন্ডার ভিসিয়ানা এয়ার বেস-এ। নিহত আইএফ কর্পোরালের নাম ভিপান শুক্ল। সে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৪ সালে ভিসিয়ানা এয়ারবেসে আসে ভিপান। এর পরেই ওই এয়ারবেসে কর্মরত সার্জেন্ট সুলেশ কুমারের স্ত্রী অনুরাধার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে সে। বিবাহিত হলেও সেই সময় একাই এয়ারবেসে থাকত ভিপান। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ে সুলেশ কুমার নামে এক সার্জেন্টের স্ত্রী। এর পরেই বিয়ের জন্য ভিপানকে চাপ দেয় অনুরাধা। কিন্তু ভিপান তাকে জানিয়ে দেয়, সে নিজে যেহেতু বিবাহিত, সেই কারণে তার পক্ষে অনুরাধাকে বিয়ে করা সম্ভব নয়। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ভিপানের স্ত্রী শুক্লা ভিসিয়ানা এয়ারবেসে এসে স্বামীর সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। তখন বাধ্য হয়ে সবকথা নিজের স্বামীকে জানায় ভিপানের প্রেমিকা অনুরাধা।

সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে স্ত্রীর অন্তঃসত্তা হয়ে পড়ার কথা শুনেই ভিপানকে খুন করার ছক কষতে থাকে অনুরাধার স্বামী সুলেশ। এর পরে গত আট ফ্রেব্রুয়ারি নিজের স্ত্রী, শ্যালককে সঙ্গে নিয়ে ভিপানকে খুন করে ওই এয়ারফোর্স সার্জেন্ট। গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় থানায় স্বামী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন বলে ডায়েরি করেন ভিপানের স্ত্রী। এর পরে তদন্তে নামে পুলিশ। এয়ারবেসের এলাকায় তল্লাশির সময়ে পুলিশ কুকুরই অভিযুক্ত সার্জেন্টের কোয়ার্টারের ফ্রিজ এবং আলমারির দিকে ইঙ্গিত করে। সেখান থেকেই ষোলোটি প্লাস্টিকের ব্যাগে ভিপানের দেহ উদ্ধার হয়।

ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, কোয়ার্টার বদলের সময় জিনিসপত্র সরাতে সাহায্য করার নামে ভিপানকে ডেকে পাঠিয়েছিল সুলেশ। এর পরে স্ত্রী, শ্যালকের সাহায্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভিপানকে খুন করে সুলেশ। প্রথমে ভিপানের দেহ একটি লোহার ট্রাংকে লুকিয়ে রাখা হয়। তার পরে সেই দেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজ এবং আলমারির ভিতরে ব্যাগে ভরে লুকিয়ে রাখে অভিযুক্তরা। অভিযুক্ত সার্জেন্ট এবং তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করলেও খুনে জড়িত সার্জেন্টের শ্যালক শশী ভূষণ এখনও পলাতক। সেও মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত। অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধেই খুন এবং প্রমাণ লোপাটের ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Call Now
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

১৮ প্লাস

Call Now