নারীর প্রতি যৌন হয়রানি রুখতে চলচ্চিত্র নির্মাণ।

নারীর প্রতি যৌন হয়রানি রুখতে এবার চলচ্চিত্রকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন এ প্রজন্মের আটজন চলচ্চিত্র নির্মাতা। নির্মাতা আফজাল হোসেন মুন্নার উদ্যোগেই এই কার্যক্রমের শুরু। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ দেশের নারীদের ওপর চলা বর্বরতা এবং বর্তমানে চলতে থাকা ধর্ষণ, খুন ও হয়রানির ঘটনা নির্মাতা মুন্নাকে নাড়া দেয় ভীষণভাবে।এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৫ মার্চ তিনি ফেসবুকে #আইস্ট্যান্ডফরওমেন লিখে ‘সিনেমা হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিপ্লবের হাতিয়ার’ স্লোগানে নারীর ওপর অবিরাম চলমান নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক দেন। এই আহ্বানে প্রথমে ছয়জন নির্মাতাকে ছবি বানানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়। এর পর অন্য নির্মাতাদের মাঝে তা ছড়িয়ে পড়লে সবাইকে নিয়ে শুরু হয় এই মুভমেন্টের পথচলা। কেউ কেউ অবশ্য এসেও পরে সরে গেছেন। প্রত্যেক নির্মাতা তার স্বাধীন নির্মাণশৈলী দিয়ে নিজের চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন যার যার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে।

একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন সাকী ফারজানা। তার পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্যটির নাম ‘দ্য পার্ক, দ্য বেঞ্চ অ্যান্ড দ্য গার্ল’। তিনি বলেন, ‘একজন নারী হিসেবে আমি যেসব হয়রানি ও সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছি এবং আমার চারপাশের নারীরাও যে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন, আমি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এসব তুলে ধরতে চেয়েছি। তবে বাকি নির্মাতাদের তুলনায় আমি অনেক নতুন। আমার নির্মিত প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে মুন্না ভাই যথেষ্ট সাহস জুগিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি টেকনিক্যাল সাপোর্টও দিয়েছেন। এ ছাড়া আমার টিমের প্রত্যেক সদস্যের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এ নির্মাণ একেবারেই সম্ভব ছিল না।’এ মুভমেন্টে অংশ নেওয়া কয়েকজন নির্মাতা আসলে একেবারে ব্যক্তিগত অর্থায়নে চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। বাজেটের অনুকূলে দক্ষ অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করা হয়েছে। গল্পে ১৫/১৬ বছর ধরে মঞ্চে কাজ করা অভিনেতাদের সঙ্গে নতুন মুখও কাজ করেছে। সাকী বলেন, ‘আমার এই চলচ্চিত্রের অধিকাংশ চরিত্রের সংলাপ নেই। কোনো কথা ছাড়া শুধু বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি এবং ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ দিয়েও যে একজন নারীকে আমাদের সমাজে কতটা অস্বস্তিতে ফেলা হয়, তা কিছুটা হয়তো দর্শক উপলব্ধি করতে পারবেন।’‘দ্য পার্ক, দ্য বেঞ্চ অ্যান্ড দ্য গার্ল’-এর প্রযোজক আমজাদ হোসেন, চিত্রগ্রাহক কে. ডি মৃদুল, এডি বিভাস রায়। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জয়িতা মহলানবিশ, হৃদয় আল মিরু, রেহান রাসুল, আবির হক, সোহেল তৌফিক ও রোজি আক্তার।মুভমেন্টের অন্যান্য স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে আফজাল হোসেন মুন্নার ‘দ্য ওল্ডম্যান অ্যান্ড দ্য গার্ল’, খিজির হায়াত খানের ‘সে নো টু রেপ’, জসিম আহমেদের ‘চকলেট’, রাজু আহসানের ‘লিপস্টিক’, প্রতীক সরকারের ‘মুখোশ’, আশিকুর রহমানের ‘অসম্ভাবিত’ এবং আসিফ খানের ‘দ্য মাদার’। খুব শিগগির ছবিগুলোর প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। এর পর বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পেইন ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সাকী ফারজানা।

You might also like More from author

Leave A Reply

Your email address will not be published.

Call Now
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com

১৮ প্লাস

Call Now